» বরিশালে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি

Published: ১৯. আগ. ২০১৭ | শনিবার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বরিশালের ৬টি আসন থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও ইসলামী আন্দোলনের অর্ধশতাধিক নেতা নানা প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রার্থী হতে লবিং শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি এলাকায় জনসংযোগ করে চলেছেন। এতে করে এক ধরনের উত্সাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে পুরনোদের পাশাপাশি নতুনরাও মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তবে যারাই প্রার্থী হোক না কেন শেষ পর্যন্ত ৬টি আসনের মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ ও ২টিতে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

মহানগরসহ ১০ উপজেলা নিয়ে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসন গঠিত। এসব আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। স্থানীয়রা জানান, ঈদুল ফিতরেও যাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, হঠাত্ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সেই সব রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। সাক্ষাত্ তো দূরের কথা, যাদের ফোনেও পাওয়া যেত না তারাই এখন সার্বক্ষণিক সময় দিচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায়। কোরবানীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ব্যানারে এসব সুবিধাভোগী নেতারা কর্মী বাগাতে নানা তত্পরতা শুরু করেছেন। এতে দলের সুবিধাভোগী নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেলেও, সুযোগসন্ধানী এসব নেতার হঠাত্ মধুর বুলিকে কানে না তুলে হাইকমান্ড থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন ত্যাগী কর্মীরা। তারা জানান, দলের প্রার্থী মনোনয়নের পর মাঠে নামবেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক নেতা জানান, গত জন্মাষ্ঠমীতে অতিথিদের না পাওয়ায় মনে কষ্ট ছিলো। এবারের জন্মাষ্ঠমীতে অতিথি সামলাতেই যেন বেগ পেতে হয়েছে। সকলেই উপস্থিত থেকে তাদের বিশেষ সহায়তা করেছেন।

বরিশালের আগৈলঝাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিয়ে সম্প্রতি সরকারের মধ্যে যে তোলপাড় হয়ে গেল তা নিয়ে বরিশালের প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগে সৃষ্ট সংকটের প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গনেও কিছুটা প্রতিক্রিয়া ফেলছে। সরকারি দলের মধ্যে যার আলামত ইতিমধ্যে দেখা দেওয়ায় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এর প্রচ্ছন্ন ছাপ পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আসন ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থী: বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। বরিশাল আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে তাঁর ঐ আসন থেকে অন্য কোনো প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেই বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করছেন। তবে অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দারও মনোনয়নের লড়াইয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের নাম আলোচনায় আছে। জাতীয় পার্টি (এ) এককভাবে নির্বাচন করলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন গৌরনদী উপজেলার সভাপতি ইউনুস বেপারী এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার সভাপতি সরদার হারুন রানা। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মেহেদী হাসান রাসেল। জানা গেছে, এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হওয়ায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তাদেরই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। তিনি ছাড়াও দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থিতার দৌড়ে আছেন সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলম, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু প্রমুখ।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, রনকুল ইসলাম টিপু, দুলাল হোসেন, শহীদুল হক দুলাল এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা ইলিয়াস খান।

জাতীয় পার্টির (এ) যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নেছার উদ্দিন এর নামও এলাকায় আলোচনায় আছে। এ আসন থেকে জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান আনিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদলও মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব সিরাজউদ্দিন আহমেদ, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট বলরাম পোদ্দার, মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মিঠু ও কাজী এমদাদুল হক দুলাল।

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অপর ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান ও সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গু। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম মনোনয়ন পেতে পারেন।

জোটভুক্ত নির্বাচন হলে এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ টিপু সুলতান ও যুব মৈত্রী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. আতিকুর রহমান। তবে এ আসনে নিজেদের প্রার্থী দিতে মরিয়া জাতীয় পার্টি (এ)। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মুন্সী ও মুলাদী উপজেলার জাতীয় পার্টির (এ) সভাপতি আব্দুল্লাহ হারুন। তবে এ আসনে বড় দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বর্তমান এমপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, দু’বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম, মেজর (অব.) নাছির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আফজালুল করিম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মজিবর রহমান হাওলাদার, মেজর (অব.) মহসিন সিকদার প্রমুখ।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী শাহ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর ও মোশারফ হোসেন মংগু। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের মনোনয়ন প্রার্থী।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়ন পেতে লবিং করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এছহাক ভূইয়া ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী সম্পাদক হারুন আর রশিদ। এই আসনেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল-৫ আসন (মহানগর-সদর) বিশেষ মর্যাদার বলে সমাদৃত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমান গুরুত্ব দিচ্ছে আসনটি নিজেদের ঘরে নিতে। ক্ষমতাসীন দল থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচিতরা হলেন, বরিশাল সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের সহধর্মিণী জেবুন্নেছা আফরোজ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু প্রমুখ।

এ আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত নব্বইয়ের দশক থেকেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার সদর আসনে বরাবরের মতো বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী। এ আসনে এখন পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিলকিস জাহান শিরিন ও আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হবার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম সদর আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টি (এ) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর সভাপতি টানা ৪ বার নির্বাচিত কাউন্সিলর একেএম মরতুজা আবেদীন এবং জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল। এ আসনে যারাই প্রার্থী হোক না কেন বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর রশীদ খান, প্রয়াত এমপি মাসুদ রেজার সহধর্মিণী জেলা পরিষদ সদস্য আইরিন রেজা ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল হোসেন খান, শিকদার খলিলুর রহমান, আব্দুস শুক্কুর বাচ্চু ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সম্পাদক লন্ডনে অবস্থানরত নজরুল ইসলাম খান রাজন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে পারেন মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন ডাকুয়া।

জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলে এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি নাসরিন জাহান রত্না আমিন। জাতীয় পার্টি একক নির্বাচন করলেও এ আসনে প্রার্থী হবেন তিনি। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটভুক্ত নির্বাচন হলে এ আসনে জোটের মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা মো. মহসীন। এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার মধ্যে লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি দলের প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেন।

নানা সমীকরণ: আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, যে আসনগুলোতে প্রার্থী বেশি কিংবা দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সে আসনগুলো নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলছে। তৃণমূল থেকে নানা প্রস্তাবও করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এরমধ্যে বরিশাল-২ আসনটি অন্যতম। এ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস অন্য উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় ঐ আসনে তার পরিচিতি কিছুটা কম এবং এলাকায় যাতায়াতও কম বলে কারো কারো অভিমত। তবে তালুকদার মো. ইউনুসের সরব উপস্থিতি রয়েছে বরিশাল নগরীতে। তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করায় নগরীর দলীয় কার্যালয়েই প্রতিদিন সময় দেন। নগরীতেই তিনি বেশি পরিচিত। দলীয় সূত্র জানায়, সদর আসনে বিএনপি’র মজিবর রহমান সরোয়ার শক্তিশালী প্রার্থী। তাকে মোকাবিলায় প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ ততটা শক্তিশালী প্রার্থী নন।

বরিশাল-৪ ও ৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়েও চলছে নানা সমীকরণ। বরিশাল-৬ আসনে জোটের বাইরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলে সেখানে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের বৈরিতা রয়েছে। এ দু’ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ জানিয়েছে, তারা অবস্থার প্রেক্ষিতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানাবেন।

নির্বাচন, মনোনয়ন ইত্যাদি ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আফম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ বৃহত্ একটি দল। তাই দলে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। তবে জনসমর্থন, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচারে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে কেন্দ্র। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন ইত্তেফাককে জানান, নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোর জন্যই বিএনপির প্রস্তুতি আছে। বিএনপি যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে দলের নেতা-কর্মীদের পদে পদে ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসন বাধাগ্রস্ত করছে। হামলা, মামলা ও হয়রানি বন্ধ হয়নি এখনও। তাই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের বিকল্প দেখছে না বিএনপি।

Share Button

খোঁজাখুঁজি

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০