» বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে খানা-খন্দ

Published: ২৩. আগ. ২০১৭ | বুধবার

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে খানা-খন্দে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পূর্বে মহাসড়ক মেরামত না হওয়ায় বর্তমানে খানা-খন্দে বাস কিংবা ট্রাকের চাকা দেবে যাচ্ছে। এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা বরিশাল-ঢাকা রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে থাকছে। বিশেষ করে উজিরপুরের জয়শ্রী, বামরাইল, বাটাজোর, মাহিলাড়া, বেজহার, কাসেমাবাদ, হ্যালিপ্যাড, আশোকাঠী, দক্ষিণ বিজয়পুর, গৌরনদী, কসবা, টরকী, সাউদেরখালপাড়, ইল্লা, বার্থী, কটকস্থল, ভুরঘাটা এলাকায় বেহাল সড়কে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। এসব এলাকায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট খাট দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদুল আযহায় সড়ক পথে বাড়ি ফেরা মানুষকে পোহাতে হবে চরম দুর্ভোগ। কোরবানিতে বাড়তি যানবাহন চলাচলে খানা-খন্দে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালকরা।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে মরণ ফাঁদে পরিণত হওয়া বড় বড় গর্ত ঈদের আগেই মেরামতের দাবি জানিয়েছে বাস মালিকরা। জেলা বাস মালিক গ্রুপ সড়ক মেরামতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। তাদের কর্মসূচিতে ঈদের পূর্বে মানববন্ধন, প্রতীকী সড়ক অবরোধ ও সড়ক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ও ঈদের এক সপ্তাহ পর ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি ঘোষণার পর রবিবার জেলা বাস মালিক গ্রুপ ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নথুল্লাবাদ টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন চলাচল বন্ধ রেখে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ করেন প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কের বর্ধিতকরণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে কিন্তু এখনও অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। কর্মসূচিতে আজ বুধবার মহাসড়কে প্রতীকী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

সংগঠনের সভাপতি আফতাব হোসেন জানান, মহাসড়কের জয়শ্রী থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহালদশা। পুরো রাস্তা জুড়ে বড় বড় গর্তের কারণে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এসব গর্তে বাস-ট্রাক আটকে পড়ে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। যানবাহনের দীর্ঘ সারি দুর্ঘটনাস্থল পার হতে অপেক্ষায় থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। তিনি বলেন, আর কয়েকদিন পর ঈদ। যাত্রীর সাথে সাথে যানবাহন বাড়বে কয়েকগুণ। চলাচল অনুপযোগী মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ থেকে রক্ষায় বরিশালে এসে মহাসড়ক মেরামতের নির্দেশ দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দ্রুত কাজ শুরু করা না হলে চাকরিচ্যুতের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন মন্ত্রী। নির্দেশের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু করা হয়নি। বর্ষার অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাস মালিকরা এজন্য দায়ী করছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। তাই যাত্রী স্বার্থরক্ষা ও পরিবহনের ক্ষতি এড়াতে আপাতত আল্টিমেটাম দিয়ে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বছরখানেক পূর্বে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে ছয় ফুট বাড়ানোসহ মেরামতের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ সম্পন্নের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স ও এমএসএএমপি জেভি লিমিটেড। কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় এক মাসের মাথায় মহাসড়কের নগরীর কাশিপুর থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত মেরামত এবং বর্ধিতকরণ কার্যক্রম শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নগরীর কাশিপুর থেকে রহমতপুর পর্যন্ত একাংশের কাজ সম্পন্ন হলেও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া উজিরপুরের জয়শ্রী থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত বাকি রয়েছে। তবে দুই পাশের বর্ধিত করা শেষ হয়েছে।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দুলাল কুমার প্রামাণিক সাংবাদিকদের জানান, বর্ষণের কারণে বিটুমিন দিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে মহাসড়কের বর্ধিতকরণ কাজ কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। বৃষ্টি কমলেই দ্রুতগতিতে পুরো কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের সাথে ঢাকা, পঞ্চগড়, চট্টগ্রাম, রংপুর, মেহেরপুর, যশোর, বেনাপোল, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহীর সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক হচ্ছে বরিশাল থেকে ভুরঘাটা সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন পরিণতি হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তার মধ্যে আসছে ঈদের আগে পরে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর ভুরঘাটা থেকে উজিরপুর জয়শ্রী পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটর ঘুরে দেখা যায় মহাসড়কটির বেহাল চিত্র। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে হাজারও ছোট-বড় গর্তের। যা এক মহা খানা-খন্দ। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলো ডুবে যাওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চালকসহ মিনিট্রাক, অটোটেম্পু, নসিমন,  মোটরসাইকেলসহ যানবাহন চালকরা গর্তগুলো দেখতে পান না ফলে তাদের অজান্তেই যানবাহন খাদে পড়ে বিকল হয়ে যায়। মাঝে-মধ্যে বর্ষা কমলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খানা-খন্দে ইট-সুড়কি দিয়ে ব্যর্থ চেষ্টা চালালেও পুনরায় বৃষ্টিতে সাবেক অবস্থায় ফিরে যায়।

এ রুটে নিয়মিত চলাচলকারী বাস ও পরিবহনের চালক এবং স্থানীয়রা জানান, মূল সড়কের দুই পাশ খুঁড়ে রাখায় প্রবল বর্ষণে পুরো মহাসড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনা। সাইড দিতে গিয়ে মহাসড়কের কোথাও না কোথাও গাড়ি খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।

Share Button

খোঁজাখুঁজি

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০