» বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

Published: ২১. আগ. ২০১৭ | সোমবার

বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ওয়ার্ডের দখিনা আবাসন, আদর্শ আবাসন, কল্যাণপুরের কিছু সড়ক ছাড়া অধিকাংশ সড়কই খানাখন্দে ভরা। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ, মশা-মাছির উপদ্রব, বেওয়ারিশ কুকুর, অকেজো সড়ক বাতি এবং জলাবদ্ধতা সমস্যায় নাকাল বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতে ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোয় পানি জমে যায়। ফুটপাত না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে মূল সড়কে। সেখানেও স্বস্তি নেই, সড়কগুলো সরু হয়ে গেছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট, বিভিন্ন স্থাপনায়। মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য মিরপুরের অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো এ ওয়ার্ডেও বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। বছরখানেক ধরেই ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে এলাকার মানুষকে গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ওয়ার্ড পরিচিতি : কল্যাণপুর, নাভানা হাউজিং, কৃষ্ণচূড়া, রাজিয়া টাওয়ার, লিগ্যাল হাইটস, দক্ষিণ পাইকপাড়া, মধ্য পাইকপাড়া, শাহ সাহেব নগর, সায়েন্স ল্যাবরেটরি কোয়ার্টার, সড়ক ও জনপথ স্টাফ কোয়ার্টার, কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট, ডি-টাইপ সরকারি কলোনি এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডের জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ, ভোটার সংখ্যা ৬৫ হাজার। ৩২টি মসজিদ, মাদ্রাসা-এতিমখানা-হেফজ্খানা ৭টি ও ২টি মন্দির-গির্জা রয়েছে। প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুল ৩টি, ১টি মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেডিকেল কলেজ ১টি এবং ৩০টি প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছে ৬০ জন। এছাড়া আবর্জনা রাখার জন্য রয়েছে ২টি এসটিএস। এ ওয়ার্ডে রয়েছে-র‌্যাব-৪ হেড অফিস, রোডস্ অ্যান্ড হাইওয়েজ ল্যাবরেটরিজ, বিআরটিসি বাস ডিপো। সরেজমিন দেখা যায়, কল্যাণপুর, দক্ষিণ ও মধ্য পাইকপাড়া এলাকার সড়কগুলোতে ঢাকা ওয়াসা নতুন পাইপ বসানোর কাজ করায় সড়কগুলো এখন বেহাল হয়ে পড়েছে। কল্যাণপুর প্রধান সড়ক, কল্যাণপুরের শহীদ মিনার সড়ক, নতুন বাজার থেকে বাঙলা কলেজ, কল্যাণপুর কাঁচা বাজার থেকে মধ্য পাইকপাড়া ছোট কাঁচা বাজার পর্যন্ত সড়কে ঢাকা ওয়াসা খোঁড়াখুঁড়ি করেছে। খোঁড়া গর্ত ভরাট করে দেয়া হলেও বালু সরে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে সড়কগুলো এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলে প্রত্যেকটি রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অফিস-আদালত কিংবা শিশুদের স্কুলে আনা-নেয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এমন বেহাল রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো মহল্লায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।

আরও দেখা গেছে, দক্ষিণ পাইকপাড়া থেকে কল্যাণপুর কাঁচা বাজার এবং শহীদ মিনার সড়কের অবস্থা বড়ই করুণ। ভাঙা আর গর্তের কারণে ঠিকমতো গাড়ি কিংবা রিকশা চলাচল করতে পারে না। কল্যাণপুর কাঁচা বাজারের পাশে শহীদ মিনার সড়কের এমনই বেহালদশার সৃষ্টি হয়েছে যে, রিকশা আর গাড়ি চলা তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাইকপাড়া ৩ নম্বর রোড (সাততলা গলি) অবৈধ দখলের কারণে অনেকটা সরু হয়ে গেছে। দক্ষিণ পাইকপাড়া দোতলা মসজিদের পশ্চিম পাশে সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার কারণে ওই এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির অন্ত নেই। একদিকে সড়কে গর্ত অন্যদিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বেকারি মোড়ের পাশে ১০ নম্বর সড়কটি একেবারেই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দুটি রিকশা একসঙ্গে চলাচলের উপায় নেই। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। পুরো সড়কটি খানাখন্দে ভরা।

খোঁজখবরে জানা যায়, নতুন বাজার সংলগ্ন রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। বিশেষ করে শহীদ মিনার রাস্তাটি কাদামাটির ছড়াছড়ি। সড়কের কোথাও কংক্রিটের আস্তর নেই। সড়কটি যেন তার নামের সার্থকতা হারিয়েছে। সড়কবাতি না থাকায় রাত নামলেই শহীদ মিনার রোডে এক ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়।

পাইকপাড়া অনির্বাণ সমিতির সভাপতি শাহজাহান ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, ২২২টি পরিবার সমিতির আওতাধীন। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ সমিতির প্রধান কাজ। রাস্তাগুলো সংস্কারের জন্য কাউন্সিলরকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে গেটের ব্যবস্থা করেছি।

Share Button

খোঁজাখুঁজি

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০