» ভোলার ১৩৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি নদীগর্ভে বিলীন

Published: ২১. আগ. ২০১৭ | সোমবার

ভোলা প্রতিনিধিঃ

জেলার ৭টি উপজেলার ১৩৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে ২০টিই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া সম্পূর্ণ ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে অন্তত ৫টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বসবাসকারীরা অন্যত্র চলে গেছে। অবশিষ্ট ১০৯টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশির ভাগেরই ঘরগুলোর নাজুক অবস্থা । কোনো ঘরের চাল আছে তো বেড়া নেই, আবার বেড়া আছে তো দরজা নেই। এখানকার বেশিরভাগ নলকূপ থেকে পানি উঠে না। টয়লেটও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পদ্মা মনসা আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সনে নৌ-বাহিনীর মাধ্যমে এটি নির্মিত হয়। এখানে নারী ও শিশুসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ বসবাস করছে। আশ্রিত পরিবারের সংখ্যা ১৫৪। এদের জন্য নির্মিত ১২টি নলকূপের মধ্যে সচল আছে মাত্র চারটি। প্রতি পাঁচ পরিবারের জন্য বাথরুম আছে একটি, তাও আবার ব্যবহার অযোগ্য। যারা এখানে বাস করছেন তাদের ঘরগুলোর কোনোটির চাল আছে তো বেড়া নেই, আবার বেড়া আছে তো দরজা নেই। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবহার অযোগ্য এসব ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু ভাঙা ঘরই নয়, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দারা। নির্মাণের পর থেকে এ আশ্রয় কেন্দ্রের কোনো প্রকার সংস্কার হয়নি । ভোলার বর্তমানে বসবাসকারী ১০৯ টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশির ভাগেরই অবস্থা খারাপ। সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য নেই ন্যূনতম চিকিত্সার ব্যবস্থা।

ভোলার নদীগর্ভে বিলীন হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো হচ্ছে— ভোলা সদরের রামদেবপুর-১, খরকি, গনেশপুর ও কালুপুরা আশ্রয়ণ, তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন, ডাঃ আজহারউদ্দিন, রাদিম, রবিপুর, জয়নালপুর, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, করতোয়া, চর জহিরউদ্দিন শাহরুখ, আহম্মদ, ডরিনা, রংধনু ও চর জহিরউদ্দিন আশ্রয়ণ, দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ নলডুগী বৈকুণ্ঠপুর ও চর মুন্সি আশ্রয়ণ প্রকল্প।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার পদ্মা মনসা আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবহার অযোগ্য এসব ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের নেই যথাযথ সেনিটেশন ব্যবস্থা। অনেক আশ্রয়ণ প্রকল্পে নেই শিশুদের কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা। যে সমস্ত আশ্রয়ণ মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়েছে সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, আশ্রয়ণের ব্যারাক ঘরগুলো নৌবাহিনীর সার্বিক নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নির্মাণের কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ করায়। ফলে নির্মাণের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই এগুলো ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে ।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলেই মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share Button

খোঁজাখুঁজি

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০