» ভোগান্তির শেষ নেই বরিশালের রুপাতলি বাস টার্মিনালে

Published: ২৫. আগ. ২০১৭ | শুক্রবার

বরিশাল নগরীর দক্ষিণ প্রান্তে রূপাতলী বাস টার্মিনাল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ রুটে প্রায় ৪০০ বাস এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। কিন্তু টার্মিনাল ভবন এবং ভেতরের বেহাল অবস্থার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। ভোগান্তির শেষ নেই বাসমালিক-চালকদেরও। অথচ এ টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এসব সমস্যা দেখেও যেন দেখছে না। বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি থেকে দু-তিন বছর ধরে বার বার তাগাদা দিয়েও রূপাতলী বাস টার্মিনালে বিরাজমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ‘যাত্রীসেবা দূরের কথা, তিন-চার বছর ধরে রূপাতলী টার্মিনালে গাড়িও রাখা যায় না। বর্ষা হলে হাঁটুর ওপর পানি জমে টার্মিনালের ভেতর। তখন গাড়িগুলো মহাসড়কের পাশে রাখতে বাধ্য হন চালকরা। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়।’ শিপন অভিযোগ করেন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সড়ক পরিবহন কমিটির যতবার সভা হয়, ততবারই রূপাতলী টার্মিনালের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়; কিন্তু কোনো সুফল মেলে না। তিনি জানান, বরিশাল-পটুয়াখালী এবং বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে টার্মিনালে প্রবেশের মুখে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা টার্মিনালের ভেতরের। বৃষ্টি হলেই এসব খানাখন্দে পানি জমে থাকে। ফলে কাদাপানি মাড়িয়ে যাত্রীদের কাউন্টারে যেতে এবং বাসে উঠতে হয়।

রূপাতলী টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন কর্মস্থল পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় যান নগরের কাশীপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান নাসিম। টার্মিনালে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে হাঁটু ভিজিয়ে বাসে উঠতে হয়। টার্মিনাল ভবনের সবক’টি টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। টার্মিনালে যাত্রীদের বসার স্থান হকার ও শ্রমিকদের দখলে থাকে।

বাসচালক ইদ্রিস শরীফ ও ইয়াকুব আলী বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে টার্মিনালে ঢুকতে ও বের হতে হয়। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়।

এক বাস মালিক বলেন, টার্মিনালের ভেতরে বিদ্যুৎ সরবরাহের খুঁটিগুলোতে বাতি ও সংযোগ নেই। রাতে গোটা টার্মিনাল এলাকা অন্ধকারে থাকে। এ সময় বখাটেরা টার্মিনালে ঢুকে মাদকের আড্ডা জমায়। অন্যদিকে লাখ লাখ টাকার গাড়ি রাখাও অনিরাপদ হয়ে পড়ে। প্রায়ই গাড়ি থেকে যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। যাত্রীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

একাধিক বাস মালিক অভিযোগ করেন, টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলা বছরের পর বছর ধরে দখল করে আছে বরিশাল জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। এ কারণে বিভিন্ন রুটের কাউন্টারগুলো সড়কের পাশে কিংবা টার্মিনালের ভেতরে স্থাপন করতে বাধ্য হচ্ছে মালিক সমিতি। এতে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, বরিশালসহ সাত জেলার সাত মালিক সমিতির চার শতাধিক বাস রূপাতলী টার্মিনাল থেকে চলাচল করে। মালিক সমিতি প্রতিবছর সিটি করপোরেশনকে ১১ লাখ টাকা টোল দেয়; কিন্তু টার্মিনালের কোনো উন্নয়ন হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, টার্মিনাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য করপোরেশনের শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া থাকলেও তারা কাজ করেন না। ফলে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে টার্মিনালে।

রূপাতলী টার্মিনালের যাত্রী টয়লেটের ইজারাদার মো. সোহেল মোল্লা অভিযোগ করেন, একটু ভারি বৃষ্টি হলেই টয়লেটগুলো পানিতে ডুবে যায়। তিন লাখ টাকায় তিনি ইজারা নিলেও ছয়টি টয়লেটের একটিরও দরজা ছিল না। নিজ উদ্যোগে টয়লেটগুলো সংস্কার করেছেন তিনি। বৃষ্টির পানিতে টয়লেটগুলো ডুবে গেলে যাত্রীরা দু-তিন দিনে আর টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন না।

রূপাতলী বাস টার্মিনালের দুরবস্থা নিয়ে কথা হয় বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি জানান, ওই টার্মিনাল থেকে করপোরেশনের আয় খুবই সামান্য। যা আয় হয়, তার বেশি ব্যয় হয় দুই ঈদের সময় সংস্কার কাজ করতে। যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, গোটা টার্মিনালটি আধুনিকায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। ওই প্রকল্প অনুমোদন এবং বরাদ্দ পেলেই বিরাজমান সমস্যা দূর হবে।

বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী খান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টিতে রূপাতলী টার্মিনাল ও সংলগ্ন সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িকভাবে ওই গর্তগুলোতে ব্যাটস (ইটের খোয়া) ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, রূপাতলী টার্মিনালের সমস্যা অনেক। এ সমস্যা দূর করতে যে টাকা প্রয়োজন তা করপোরেশনের হাতে নেই।

Share Button

খোঁজাখুঁজি

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০