» বরিশালে নির্মান সামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী বাড়িওয়ালাদের নাভিশ্বাস

Published: ০২. এপ্রি. ২০১৮ | সোমবার

বরিশালে নির্মান সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।যা চলতি বছরের গত তিন মাসে বিগত দিনের সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গেছে। তার মধ্যে ইট,বালু, রড,সিমেন্ট এর দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সামনে দাম আরো বৃদ্ধি পাবে।
সূত্রমতে, চলতি সময়টা ঘড় বাড়ি নির্মানের উপযুক্ত সময়।সামনে বর্ষাকাল অপেক্ষমান ফলে নগরীর সর্বত্রই বাড়ি নির্মানের হিরিক পড়েছে। সে সুযোগে ইট,বালু সিমেন্ট,রড ব্যবসায়ীদের দৌরত্মে দিশাহারা বাড়িওয়ালারা।
জানাগেছে,গত বছরের ডিসেম্বর মাসের নির্মান সামগ্রীর দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায় ছিল।
নতুন বছরের শুরু থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে নির্মান সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভাটিখানার বাসিন্ধা মোঃ জুয়েল হাওলাদার জানান,যেভাবে নির্মান সামগ্রীর দাম বাড়ছে তাতে বাড়িওয়াদের বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা ইনভেষ্ট করতে হচ্ছে। প্রত্যেকটি নির্মান সামগ্রী মালের দাম প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে।লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধির কারনে অনেক বাড়িওয়ালা বাড়ী নির্মানের কাজ মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছে। আসলে বাজারে কোন মনিটরিং নেই বলেই এমনটি হচ্ছে বলে তিনি জানালেন।
এ দিকে খোজ নিয়ে জানাগেছে, কিছু দিন আগে নাম্বার ইট প্রতি হাজার ৯৫০০ টাকায় বিক্রি হলে বর্তমানে তা দাম বৃদ্ধি হয়ে ১০৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।২ নাম্বার ইট প্রতি হাজার ৮০০০ টাকা ছিল যা বর্তমানে ৯০০০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মেসাস্ ইনা ব্রিকস এর মালিক মোঃইউনুস মিয়ার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,…কয়লা সাপ্লাই না থাকায় ইটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি হাজার ইটে ১ হাজার টাকা করে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।নাম্বারী ইট প্রতি ট্রাক(২০০০-ইট) ২২ হাজার টাকা দরে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে।
মেসাস্ গোল্ড ব্রিকস এর ম্যানেজার সিদ্দিকুর রহমান জানান,কয়লা পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারনে ইটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

থেমে নেই রডের দাম।কিছু দিন আগে ও যে রড প্রতি কেজি ৫০ টাকা ছিল বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।প্রতিটনে ১৫-১৮ হাজার টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে সব চেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পেয়েছে নির্মান সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম সিমেন্ট এর দাম।তিন মাস আগে ও বাজারে ্এ্যাংকর,সুপারক্রিট,সেভেন রিং ,কিংব্র্র্যান্ড,লার্ফাজ সিমেন্ট খুচরা বাজারে প্রতি ব্যাগ ৩৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা বর্তমানে দাম বৃদ্ধি পেয়ে খুচরা বাজারে প্রতি ব্যাগ ৪৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে আলাপকালে হাটখোলা হাওলাদার স্টীল কর্পোরেশন এর স্বতাধিকারী ও বিএসআরএম ও একেএএস রড , কিংব্র্যান্ড ও লার্ফাজ সিমেন্ট এর পরিবেশক মোঃমাসুদ বলেন
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম মাএ ১০০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।তাতে নির্মান সামগ্রীর দাম এতো বৃদ্ধি পাওয়ার কোন কারন দেখছি না।
তবে বাজারে মালের সাপ্লাই কম,বরিশালে সিটিকর্পোরেশনে প্লান বন্ধ ছিল হঠাৎ করে প্লান চালু হয়েছে ঠিক তখন নির্মান সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।চারিদিকে কাজের ডিমান্ড বেশি ফলে মিলওয়ালারা নির্মান সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মিলওয়ালারা প্রতিদিন ই দাম বাড়াচ্ছে। এখন টাকা দিয়ে ও নির্মান সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে কোন মনিটরিং নেই বলেই তিনি দুষলেন। বৃষ্টি বাড়লে হয়তো মালের দাম কমবে বলে তিনি জানান।
বেড়েছে বালুর দাম। পাকসি টোক বালু যা আগে ৩৭ শত টাকায় প্রতি ট্রাক বিক্রি হলে ও বর্তমানে তা প্রতি ট্রাক ৪৫ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভিটা বালু(লোকাল বালু) প্রতি ট্রাক ১১শত টাকা। সিলেট চান বালু প্রতি ট্রাক কিছু দিন আগে ৫০০০ টাকায় বিক্রি হলে ও বর্তমানে ৬৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আলাপকালে নগরীর ইসলামিয়া কলেজ সংলগ্ন ষ্টার এন্টারপ্রাইজ এর প্রপ্রাইটর আঃমন্নান বলেন,পাকসি বালু বর্তমানে প্রতি ট্রাক ৪৫ শত টাকা,সিলেটচান বালু প্রতিট্রাক ৬৫০০ টাকা,লোকাল বালু ১১ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইট,বালু,সিমেন্ট,রড এর জন্য অগ্রীম টাকা প্রদান করে ও যথাসময় পাওয়া যাচ্ছেনা বলে কয়েকজন বাড়িওয়ালা অভিযোগ করেন।

Share Button

খোঁজাখুঁজি

এপ্রিল ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মার্চ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০