» বলাৎকারের প্রতিশোধে খুন হয় বৈদ্যপাড়ার আজাদ

Published: ০৫. এপ্রি. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

দেড় মাস তদন্ত শেষে নগরীর বৈদ্যপাড়ার নিখোঁজ আব্দুল্লাহ আল আজাদের অপহরণের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক কাহিনী। বৈদ্যপাড়া নিবাসী আব্দুল্লাহ আল আজাদ গত ১৫ ফেব্রুয়ারী নথুল্লাহবাদ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারী বিমান বন্দর থানায় তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার ঝুনু বাদী হয়ে সাধারণ জিডি দায়ের করেন। পরবর্তীতে আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে স্ত্রী ঝুনুর কাছে। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারী অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন স্ত্রী ঝুনু বেগম। বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আসামীদের কাছে প্রেরণ করেন ঝুনু। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে দেড় মাস তদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ৫ এপ্রিল অপহরণকারী মেহেদী হাসান রনিকে আটক করে বিমান বন্দর থানা পুলিশ। আটক মেহেদী হাসান রনি ইনফ্রা পলিটেকনিক অটো মোবাইলস এর ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর এলাকার মশিউর রহমান রানার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) রাত ৮টায় বিমান বন্দর থানার প্রেস ব্রিফিংএ আটক মেহেদী হাসান রনি বলেন, আব্দুল্লাহ আল আজাদ এর বৈদ্যপাড়াস্থ বসতবাড়ির পাশে ভাড়া থাকত। সেই সময় থেকে তাদের পরিচয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে রনিকে প্রায়ই আজাদ তার বাসায় ডাকতেন। বাসায় নিয়ে মেহেদী হাসান রনিকে জোর পূর্বক বলাৎকার করতেন। সেই থেকে আজাদের উপর ক্ষোভ জন্মায় রনির। এভাবে প্রায়ই রনিকে ডেকে নিয়ে বলৎকার করতেন সে। বলাৎকারের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই গত ১৫ ফেব্রুয়ারী তাকে নথুল্লাহবাদ থেকে অপহরণ করে রনি। অপহরণ করে রূপাতলী হাউজিং এ তার ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আজাদকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এর পর অচেতন দেহটি ড্রামে ভর্তি করে মাহিন্দ্রাযোগে বাবুগঞ্জের সাধুকাঠী এলাকার নদীতে ফেলে দেয়। বন্ধ ড্রামের মধ্যে স্বাস বন্ধ হয়ে আজাদের মৃত্যু হয়। বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ গত ২১ ফেব্রুয়ারী বাহেরচর সাধুকাঠী এলাকার নদী থেকে যে লাশ উদ্ধার করেছে তা অপহৃত আব্দুল্লাহ আল আজাদের বলে জানান রনি। এ ব্যাপারে বিমান বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ দেড় মাস তদন্ত শেষে বৈদ্যপাড়া নিবাসী আব্দুল্লাহ আল আজাদের অপহরণ শেষে খুনের ঘটনা বেড়িয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) এ ঘটনার প্রধান আসামী মেহেদী হাসান রনিকে আটক করা হয়েছে।

Share Button