» বরিশাল আদালতের সেরেস্তাদার হারুনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

Published: ০৫. এপ্রি. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

বরিশাল যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতের সেরেস্তাদার হারুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বিচারককে ম্যানেজ করে মামলার রায় করিয়ে দেয়ায় কথা বলে ৪ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন সেরেস্তাদার হারুন অর রশিদ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সদর উপজেলার সাপানিয়া এলাকার দরিদ্র বিধবা নুরুন নাহার বেগম। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বরিশাল যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতে নুরুন নাহার ও তার মেয়েরা দেওয়ানী আপিল ২৬৫/১৯৯৩ মামলা দায়ের করেন। ওই আপিল মামলায় বিভিন্ন সময় আদালতে হাজির হলে সেরেস্তাদার হারুন তাকে বিচারককে ম্যানেজ করে মামলার রায় করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে হারুন বিধবার কাছে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করে। বিধবা টাকা দিতে অপারগতা জানালে হারুন পরবর্তীতে তার কাছ থেকে মেয়ে জামাইয়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরে হারুন বিধবার মেয়ে জামাইকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রায় করিয়ে দেয়ার কথা বলে প্ররোচিত করে। এক পর্যায়ে সে তার শাশুড়ি নুরুন নাহারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা এনে হারুনকে দেয়। গত ২৯ মার্চ মামলাটির রায়ের দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু এর আগেই সেরেস্তাদার হারুন বিধবার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা গ্রহন করে। যা প্রতিপক্ষের লোকেরা স্থানীয়ভাবে বলাবলি করে যে হারুনের মাধ্যমে বিচারককে ম্যানেজ করা হয়েছে। রায় তাদের পক্ষে দিবে। এ ঘটনায় ২৯ মার্চ বিধবা নুরুন নাহার মামলাটি অন্য আদালতে বদলীর জন্য আবেদন করে। কিন্তু ওই দিন বিচারক এজলাশে ওঠার আগে ও আবেদনের শুনানীর পূর্বে কজলিস্টে দাখিলি আবেদনটি নামঞ্জর করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল নুুরুন নাহার একই আদালতে দেওয়ানী আপিল ২৬৫/১৯৯৩ মামলাটির গত ২৯ মার্চের রায় রদ, রহিত ও বাতিলের চেয়ে রিভিউ মামলা দায়ের করে। একই সাথে ১৩/২০১৮ মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে আপিল মামলার ডিক্রি প্রস্তুতসহ কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করে। কিন্তু আদালত নুরুন নাহারের বক্তব্য শুনেন নাই। এ ঘটনায় ১ এপ্রিল নুরুন নাহার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে সেরেস্তাদার হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেরেস্তাদার হারুনকে তলব করলে সে কোন প্রকার যোগাযোগ করে নাই, সে দিন তিনি অফিসও করেন নাই। এদিকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগের অনুলিপি প্রধান বিচারপতি, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব, দুদক বরিশাল জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের পরিচালক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল এবং যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতের বিচারকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Share Button