» বরিশালের নান্দনিক স্থাপনা–অক্সফোর্ড মিশন চার্চ

Published: ২০. নভে. ২০১৮ | মঙ্গলবার

প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের দৃষ্টিনন্দন দর্শণীয় স্থানের মধ্যে অক্সফোর্ড মিশন চার্চ অন্যতম। নয়নাভিরাম, ঐতিহাসিক এ চার্চটি এপিফানী গির্জা হিসাবেও পরিচিত। ১১৩ বছরের পুরানো এচার্চটি আমাদের দেশের মনোমুগ্ধকর প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

সারিসারি পামগাছের মাঝে অবস্থিত প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সুরম্য লাল এই স্থাপনাটি দেখে দূর থেকেই মুগ্ধ হতে হয়। গ্রীক ঢং এ তৈরী এ চার্চটির প্রথম ধাপের নির্মাণ কাজ ১৯০৩ সালে শেষ হওয়ার পর এটি উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে এর ২য় ধাপের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। চার্চটি ৩৫ একর জমির উপরঅবস্থিত। প্রবেশদ্বার দিয়ে ভিতরে ঢুকেলই মন কেড়ে নেয় এর শান্ত, স্নিগ্ধ, মনোরম পরিবেশ। বিস্তৃত ঘাসের কার্পেটের মধ্যে আভিজাত্য আর শান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চার্চটি। এর সুবিশাল প্রার্থনা কক্ষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে তৎকালীন সময়ের ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। সুদৃশ্য মার্বেল টাইলস খচিত মেঝে, কাঠের কারুকার্য খচিত ছাদ আমাদের অনায়াসেই নিয়ে যায় ১০০ বছর পিছনের সময়ে।

মূল চার্চভবন ছাড়াও এখানে আছে অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারী ও হাইস্কুল, ছাএদের আবাসিক হোষ্টেল, ফাদারস এন্ড সিস্টারস হাউজ, লাইব্রেরী, হাসপাতাল, অফিস, ছোট-বড় ১৩টি পুকুর, খেলার জন্যে বিশাল সবুজ মাঠ, সুদৃশ্য ফুলবাগান প্রভৃতি। উচুঁ পাচিল পরিবেষ্টিত চার্চ কমপাউন্ডের মধ্যের নিসর্গ অত্যন্ত সুন্দর যা আমাদের মনকে সতেজতা আর ভাল লাগায় ভরে দেয়।

কিভাবে যাবেনঃ    বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি বগুড়া রোডে বরিশাল গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল থেকে পশ্চিম দিকে সামান্য সামনে চার্চটির অবস্থান। শহরের যে কোন জায়গা থেকে অটো/রিক্সা/মাহেন্দ্র যোগে যাওয়া যাবে। আগে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে খোলা থাকলেও বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে এখানে প্রবেশের ব্যাপারে কিছু বিধি নিষেধ আছে। তাই বিশেষ অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয়। তবে বাইরে থেকে চার্চটি দেখেও মুগ্ধ হবেন নিশ্চিত।

Share Button