» বাংলাদেশের নির্বাচন ও ভারত প্রসঙ্গ

Published: ২৩. নভে. ২০১৮ | শুক্রবার

সম্প্রতি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য-প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের কিছু প্রাক্তন রাষ্ট্রদুত আর সাথে বর্তমান রাষ্ট্রদুতও। তবে এটা মূলত বাংলাদেশের এক দৈনিকের উদ্যোগে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নেয়া কিছু মন্তব্য-প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে ছাপা এক রিপোর্ট।

যদিও দেখা যাচ্ছে, ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্য কোথাও যেসব কথা বলেছেন, সেসব কথাগুলো ওখানে আছে। যেমন বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে যাচ্ছে এটা দেখে নাকি ভারত “উৎফুল্ল”। এছাড়া ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও তারা নাকি মনে করে যে, সংবিধান অনুযায়ী ঠিক সময়েই ভোট হবে এবং সেই ভোট হবে অংশগ্রহণমূলক। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকবে, ইত্যাদি।

বাংলাদেশে দিল্লির স্বার্থ আছে, থাকবে। কিন্তু অবশ্যই সেটাও নুন্যতম রাষ্ট্র বিষয়ক কিছু নৈতিকতা মূল্যবোধের উপরে দাঁড়িয়ে হতে হবে। কারণ উভয় রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের পক্ষের কিছু নৈতিকতা বা মূল্যবোধের কমন-নেস এটাই সেই ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

যেমন, জনগণকে অবাধে ভোট দিতে হবে। আর সেই অবাধে দেয়া ভোট থেকেই একমাত্র ক্ষমতার ম্যান্ডেট প্রাপ্ত হয়েছে এটা হতেই হবে। এই ব্যাপারটা কেবল বাংলাদেশের বেলায় বলে নয়, ভারতের বেলায়ও একইভাবে সত্য। আর এটা যে কোনো মর্ডান রিপাবলিক রাষ্ট্রের নুন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ভারতের হাইকমিশনার যদি বাংলাদেশে ‘সর্বস্তরে উৎসাহ-উদ্দীপনা’ দেখে আর ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক” হতে যাচ্ছে দেখে ভারত আনন্দিত হন তবে এর মানে তাহলে এটা ‘অংশগ্রহণমূলক’ মানে বিএনপিসহ বিরোধী দলই না এলে কি ভারত অখুশি হত? না, এমন কোনো ভারতীয় নীতির কথা আমাদের কারও জানা নেই।

২০১৪ সালের মে মাস থেকে মোদী সরকারের শাসনের এখন সাড়ে চার বছর চলছে। সুজাতা সিং ২০১৩ সালে্র ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসার মাত্র চার মাস আগে বিদেশ সচিব হয়েছিলেন। আর পরবর্তিতে মোদী আমলে আরও দুবছরের মাথায় সুজাতা সিং ২০১৫ সালে ভিন্ন কারণে বরখাস্ত হয়ে যান। কিন্তু যেটা আমাদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ, ঐ দুই বছরে মোদী নিজে ও তার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দুবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। কিন্তু কখনই তৎকালে চাকরিতে সক্রিয় থাকা বিদেশ সচিব সুজাতা সিংকে কখনও কারও সফরসঙ্গি করেন নাই, হতে দেন নাই। অর্থাৎ সুজাতা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের পর আর কখনও বাংলাদেশে আসেন নাই। মোদীর এই সিদ্ধান্তের পিছনের সম্ভাব্য কারণ হল, তাদের বাংলাদেশ সফরকালে মিডিয়ায় তিনি বা সুজাতা  ২০১৩ সাল নিয়ে কোনো বিরূপ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে যান কিনা তা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে সুজাতা ঢাকা এসে এরশাদকে নির্বাচনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন যা এরশাদ আবার গণমাধ্যমে প্রকাশ্ও করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু আমরা সবাই অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি সুজাতার এই পদক্ষেপ নিয়ে ভারতের কোনো  ইন্টেলেক্ট, প্রাক্তন কূটনীতিক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কেউ কখনও নিন্দা বা সমালোচনা করেন নাই। নিজেরা শরমিন্দা হন নাই। অন্তত তাদের কোনো ভিন্ন মত আছে, এমনটি দেখান নাই।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আবার নির্বাচন এসেছে, আর তাঁরা এই নির্বাচন নিয়ে আবার মন্তব্য করতে এসেছেন। রাষ্ট্র, নির্বাচন, সরকার ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁরা কী বলবেন? কাকে ভাল কাকে মন্দ বলবেন? কিসের ভিত্তিতে বলবেন? সব নাগরিকেরই যার যার রাষ্ট্রস্বার্থবোধ কম-বেশি আছে, থাকে। ভারতেরও আছে। কাজেই, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারতের অবস্থান সব সময় ইতিবাচক হবে এটাই কাম্য।

গৌতম দাস : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Share Button